তিন ফোঁটা চোখের পানি – মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ (দা.বা)

চারপাশে এখন ফুলের সুবাস নেই, আছে বারুদের গন্ধ! আগুনের ধোঁয়া! কোথাও এখন পাখির কোলাহল নেই; আছে হিংস্র হায়েনার উল্লাস, আছে ঝাঁঝরা বুকের আর্তনাদ! বারুদের গন্ধ, আগুনের ধোঁয়া এবং ক্ষতবিক্ষত লাশের বীভৎস দৃশ্য; এসবের মাঝে আর যাই হোক সাহিত্যের কথা ভাবা যায় না, বাগানের কথা, ফুলের কথা, পাখির গানের কথা লেখা যায় না। এখন লিখতে হলে লিখতে হবে বারুদের কথা, আগুনের কথা, মাজলুমানের আর্তনাদের কথা। এখন তারাই শুধু লিখতে পারে, বারুদকে যারা বলবে, এটা বারুদ, আগুনকে বলবে এটা আগুন এবং পশুর সামনে দাঁড়িয়ে বলবে, ‘তুমি মানুষ নও’। কিন্তু কোথায় আমার সেই সাহস ও শক্তি!
কলম থাকে অনেকের এবং লেখার ইচ্ছেও থাকে, কিন্তু সময়ের দাবী রক্ষা করে এবং সত্যের আদেশ মান্য করে কলমচালনা করার সাহস থাকে খুব কম মানুষের। সঙ্কোচ হয়, তবু স্বীকার করি, আমার ইচ্ছে আছে, সাহস নেই। ‘সাহিত্যের ফুল এবং ফুলের সাহিত্য লিখতে সাহস লাগে না, শুধু শান্ত অনুকূল পরিবেশ হলেই লেখা আসে। ‘সাহিত্যের আগুন এবং আগুনের সাহিত্যִ লিখতে পরিবেশ লাগে না, শুধু সাহস লাগে। আমার বুকে সাহস নেই, সুতরাং বারুদের গন্ধ, আগুনের ধোঁয়া এবং ছিন্ন-ভিন্ন লাশ ও হাযেনার উল্লাস; এর মধ্যেও যারা আমার কলম থেকে পেতে চায় কিছু লেখা, তাদের আমি ‘জোড়হাতে’ বলি, ক্ষমা করো বন্ধু, আমার ভীরুতা ও অক্ষমতাকে।
স্বীকার করছি; এখন যা লেখা দরকার তা লেখার সাহস আমার নেই, তবে একটা কথা বলার সাহস আমার আছে। জাতির এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে এবং ঈমান ও বিশ্বাসের এই অগ্নিপরীক্ষার মুহূর্তে যালিমের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বাতিলের মুকাবেলা করার জন্য আল্লাহ যার হাতে কলম তুলে দিয়েছেন; যার বুকের পাঁজরে মিথ্যাকে মিথ্যা এবং সত্যকে সত্য বলার সাহস দিয়েছেন, ‘আমার দেশের’ মাহমুদুর রহমান, তার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের সাহস আমার আছে। অন্তরের অন্তঃস্তল থেকে কামনা করি, তিনি সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন; তিনি চলতে থাকুন এবং লড়তে থাকুন। ন্যায় ও সত্যের দুর্গম পথে আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন।
(এ কথাগুলো লেখার সময় তিনি বন্দী ছিলেন কারাগারের বাইরে, এখন তিনি বন্দী কারাগারের ভিতরে। পরিবেশ পরিস্থিতির কত দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে! গতকালের লেখা আজকের জন্য এবং আজকের লেখা আগামীকালের জন্য কেমন বেমানান হয়ে যাচ্ছে! এ লেখা যখন প্রকাশ পাবে, যদি প্রকাশ পায়, জানি না, এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকবে কি না। তবু লিখছি। অক্ষম মানুষের আরো অক্ষম কলমের ‘আর্তনাদ’ কাগজের পাতায় ধরে রাখছি। এছাড়া আর কী করতে পারি!)
রাজপথে বহু আলিম ও তালিবে ইলমের বুক থেকে রক্ত ঝরেছে। গর্বের বিষয়, রক্তের দাবী পূর্ণ করতে আলিমসমাজ কখনো কার্পণ্য করে নি। কত ভালো হতো, সেই সঙ্গে কোনো আলিমের কলম থেকে যদি আগুন ঝরতো! অন্তত একটা কলম থেকে যদি তলোয়ারের ঝঙ্কার শোনা যেতো! আফসোস, কলমের দাবী আমরা কখনো পূর্ণ করতে পারি নি। এযুগে অস্তিত্বরক্ষার যুদ্ধে জয়ী হতে হলে বুকের লাল রক্তের যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন কালো কালির। আমাদের বুকে রক্ত আছে, আমাদের চোখে অশ্রু আছে, কিন্তু আমাদের কলমে কালি নেই। নেই তো নেই! কেনো নেই তাও জানা নেই। এতোদিন তাহলে কী করলাম? কী পড়লাম? কী লিখলাম এবং কী শিখলাম? আমরা যাদের কাছে ছিলাম তারা কী করলেন? আমাদের কাছে যারা ছিলো তারা কী করলো? এ দু’য়ের মাঝখানে আমরা! কোথায় আমাদের অবস্থান?
একজন সম্পর্কে কিছুটা শ্রদ্ধা ছিলো এবং প্রত্যাশা ছিলো, প্রয়োজনের সময় তার কলমের কালি ‘খুনের রঙ’ ধারণ করতে পারে; কিন্তু কালো রঙটাও বাকি থাকলো না, ‘সাদা’ হয়ে গেলো, বিলকুল সাদা! ভিতরে রক্তের রঙ যখন সাদা হয়ে যায়, কলমের কালিও বোধয় সাদা হয়ে যায়। নানুতবী ও শায়খুল হিন্দের হে দারুল উলূম! কাশ্মীরী ও মাদানীর হে দেওবন্দ! তোমার ‘দস্তার’ মাথায় নিয়ে, তোমার দস্তরখানের লোকমা খেয়ে হতে পারে কেউ নাস্তিকের দোস্ত! হতে পারে এমন নেমকহারাম! জাহেল-মূর্খরা অনেক কিছু হতে পারে; হতে পারে নাস্তিক শাহাবাগী, কিন্তু কোনো ‘আলিম’ কি হতে পারে ইসলামের ‘বাগী’! শাহাবাগের সহযোগী? আসলে হিদায়াত তোমার হাতে হে আল্লাহ!
পথে, মোড়ে, চত্বরে হায়েনাদের কী হুঙ্কার! সংখ্যায় কত অল্প, অথচ কী উন্মত্ত! এদের প্রতিরোধের জন্য অবশ্যই মাথায় কাফন বেঁধে পথে নেমে আসার প্রয়োজন ছিলো। দেশের আলেমান ও তালেবান পথের দাবী রক্ষা করে পথে নেমেছেন; তাই হায়েনার হুঙ্কারের তেজ কিছুটা কমেছে, ক্ষিপ্ত কুকুরের লেজ কিছুটা নেমেছে। না হলে কী হত, ভাবতেও বুক কেঁপে ওঠে। কিন্তু ‘আমার দেশ’র ষোলটি পাতা যদি না হতো! মাহমুদুর রহমানের কলমের কয়েক ফোঁটা কালি যদি না হতো! আমাকে ভুল বোঝো না বন্ধু! লাল খুনের দাম আমি জানি; শুধু চাই, কালো কালির মূল্য তুমি বুঝতে চেষ্টা করো। রাস্তার ডাকে তুমি রাস্তায় নেমে এসো, পথের দাবী তুমি রাজপথে দাঁড়িয়ে রক্ষা করো, তবে তার আগে পাথেয় সংগ্রহ করো এবং পথের মানচিত্র তৈরী করো।
দেশব্যাপী এই যে মহাআলোড়ন, শাপলাচত্বরে তাওহীদী জনতার এই যে প্রবল জোয়ার, তাতে সবাই খুশী, আমিও খুশী। তবু মনের মধ্যে একটা চিন্তা ঘুরে ফিরে আসে। সামান্য কয়েকটা ভ্রষ্ট তরুণের ঔদ্ধত্য দমন করার জন্য দিতে হলো এতো রক্ত! নিতে হলো শহীদানে বদরের নামে শপথ!! মাথায় পরতে হলো কাফনের কাপড়!!! কিন্তু এভাবে আর কত? ঘড়ির কাঁটার ঘুর্ণন এবং সময়ের স্পন্দন আমরা কি বুঝতে পারছি? ধীরে ধীরে আমাদের শক্তি যে কমে আসছে; সময় ও সমাজের উপর আমাদের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ যে শিথিল হয়ে আসছে; এককথায়, জোয়ারে ভাটার টান যে শুরু হয়েছে, আমরা কি অনুধাবন করতে পারছি?
নিকট অতীতে আরো বড় ফিতনা ওলামায়ে উম্মতের একটা ধমকেই ঠাণ্ডা হয়ে যেতো। তারপর ধমকের বদলে হুমকির প্রয়োজন হলো, আরো পরে হুমকির স্থলে প্রয়োজন হলো হুঙ্কারের। এবার হুঙ্কারেও কাজ হলো না; কাফন পরতে হলো, রক্ত দিতে হলো এবং দিতে হলো প্রাণ। তাতেও ফিতনা দমেনি, একটু কমযোর হয়েছে। বাতিল শক্তি মাঝেমধ্যে ঢিল ছুঁড়ে আমাদের শক্তির জোয়ার-ভাটা পরিমাপ করে। এবং এবার বোধহয় ওরা যথেষ্ট উল্লসিত। ওরা বুঝতে পেরেছে, দিন দিন ওদের শক্তি বাড়ছে আর আমাদের শক্তির পারদ ক্রমেই নিচের দিকে নামছে।
এভাবে যদি চলতে থাকে, কিছুদিন পর তাহলে কী হবে? কী হতে পারে? যা হতে পারে সে সম্পর্কে অত্যন্ত কঠিন সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন বর্তমান সময়ে আমাদের অভিভাবকপুরুষ, হেফাযতে ইসলামের আমীর হযরত আল্লামা আহমদ শফী (দামাত বারাকাতুহুম)। তিনি বলেছেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে এদেশে ইসলামের নাম নেয়াও কঠিন হয়ে পড়বে।’
প্রশ্ন হলো; যখনই বাতিল মাথাচাড়া দেয় ওলামায়ে উম্মত সর্বশক্তি দিয়ে বাতিলের প্রতিরোধ করেন। রাজপথে নেমে আসেন এবং অকাতরে বুকের রক্ত ঢেলে দেন। তবু কেনো এমন হচ্ছে? বাতিলের শক্তি বাড়ছে! আমাদের শক্তি কমছে!!
আমার মনে হয়, এর বড় একটা কারণ এই যে, শুরু থেকেই বাতিলের মুকাবেলায় আমরা লড়াই করছি শক্তি ব্যয় করে, শক্তি সঞ্চয় করে নয়। হাঁ, ‘শক্তি ব্যয় করে, শক্তি সঞ্চয় করে নয়’। সহজ কথা, তবু মনে হয় কিছুটা ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে।
মনে প্রাণে আমি একজন শিক্ষক; সারা জীবন শিক্ষার অঙ্গনেই আমার সামান্য যা কিছু বিচরণ। সুতরাং সবার আগে আমি শিক্ষাব্যবস্থার কথাই বলবো। আমাদের দ্বীনী মাদারেসের নেযামে তা’লীম ও নেছাবে তা’লীম বহু যুগ ধরে প্রায় একই অবস্থায় স্থির হয়ে আছে। ফলে সময় যত এগিয়েছে, জীবনের চলমান কাফেলা থেকে আমরা তত পিছিয়ে পড়েছি। সময় ও সমাজের কিছু বৈধ চাহিদা থাকে, আর কিছু থাকে অবৈধ চাহিদা। শিক্ষাব্যবস্থা যদি শিক্ষার্থীর মধ্যে এমন যোগ্যতা তৈরী করতে পারে, যাতে সে সময় ও সমাজের বৈধ চাহিদাগুলো পূর্ণ করতে এবং অবৈধ চাহিদাগুলো রোধ করতে সক্ষম হয়, তাহলেই সময় ও সমাজের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে, অন্যথায় সময় যত অগ্রসর হতে থাকে সমাজের উপর নিয়ন্ত্রণ তত শিথিল হতে থাকে।
আজ থেকে প্রায় সত্তর বছর আগে আল্লামা সৈয়দ সুলায়মান নাদাবী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) আফগানিস্তানে আলিমসমাজের উদ্দেশ্যে বড় দরদ-ব্যথা নিয়ে বলেছিলেন, ‘আফগানিস্তান যদি যিন্দা থাকতে চায় তাহলে পর্যায়ক্রমে তা’লীমের তরীকা, নেযাম ও নেছাবের সংস্কার করতে হবে এবং এমন ওলামা তৈয়ার করতে হবে যারা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত আফগান যুবকদের পথ দেখাতে পারে।’ (এখানে পড়ুন, ‘বাংলাদেশ যদি বেঁচে থাকতে চায় –‘ তারপর ভেবে দেখুন, কোথায় আমরা, কোথায় আমাদের দেশের যুবসমাজ ও তরুণসম্প্রদায়!)
আমাদের দেশে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কত? এর মধ্যে যারা মাদরাসায় আসে তাদের হার কত? মাদরাসার বাইরে এই যে বিপুল সংখ্যা, এদের আমরা কাদের রহম-করমের উপর ছেড়ে দিয়েছি? আধুনিক ও জীবনমুখী শিক্ষার নামে এদের তারা কোন পথে নিয়ে চলেছে? এদের কাছে যাওয়ার বা এদের কাছে আনার জন্য আমরা কী করেছি? হয় আমাদের কর্তব্য ছিলো জাতিকে অভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা উপহার দেয়া, যাতে জাতি হযরত ছদর ছাহেব রাহ এর প্রজ্ঞাপূর্ণ ভাষায়, ‘ধর্মহীন কর্মশিক্ষা ও কর্মহীন ধর্মশিক্ষা’র দুর্গতি থেকে রক্ষা পায়; কিংবা কর্তব্য ছিলো সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার ইসলামায়নের বাস্তবানুগ উদ্যোগ গ্রহণ করা।
বিষয়টি নিয়ে কি আমরা গভীরভাবে ভেবেছি? ভাববার যোগ্যতা অর্জন করেছি? কাদের কাছে আমরা সনদের জন্য হাত পাতি? কাগজের সনদ কি হতে পারে আমাদের সমস্যার সমাধান? আমরা সনদ পেয়ে হাত গুটিয়ে নেবো; ওরা কি সনদ দিয়ে গুটিয়ে নেবে ওদের লম্বা হাত, না থাবা বিস্তার করার সুযোগ লুফে নেবে?
পঞ্চাশ/ষাট বছর আগে যখন যথেষ্ট সুযোগ ছিলো, পরিবেশ-পরিস্থিতি অনেক অনুকূল ছিলো, কেনো আমরা ভবিষ্যতের কথা ভাবি নি? কেনো সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করি নি? অন্তত এতটুকু তো করতে পারতাম! দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাটা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা তো শুরু করতে পারতাম!
কল্পনা করুন, আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে যদি এ কাজটা শুরু করা যেতো; যদি তখনকার সতের/ উনিশটা জেলায় একটা দু’টো করে ‘প্রাইমারি স্কুল’ করা হতো, যেখানে আলিমরাই হবেন বাংলা, অঙ্ক, ইংরেজি, ভূগোল প্রভৃতির শিক্ষক, যেখানে শিক্ষায়, দীক্ষায়, ধার্মিকতায় ছাত্ররা হবে – – – । পঞ্চাশ বছর ধরে যদি আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকত তাহলে আজ কতগুলো স্কুল, কলেজ আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকতো! অন্তত একটা বিশ্ববিদ্যালয় কি আমাদের হতো না! কিন্তু আমরা তা করি নি। করি নি মানে, করার চিন্তাও করি নি এবং নূন্যতম যোগ্যতাও অর্জন করি নি।
এখনকার অবস্থা জানি না; যখন আমরা লালবাগ মাদরাসায়, যার পোশাকি নাম ‘জামেয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া’, ছাত্র ছিলাম, ‘ছিটেফোঁটা’ বাংলা, অঙ্ক, ইংরেজি পড়েছি। কার কাছে? না, কোনো আলিমের কাছে নয়, যাদের কাছে ফেকাহ, তাফসীর, হাদীছ, নহব, বালাগাত পড়েছি তাদের কারো কাছে নয়, একজন বুড়ো মাস্টারের কাছে। কেনো? ধর্ম বা ইসলামিয়াত পড়ানোর জন্য ওরা রাখে মৌলবী, আমরা রেখে দেই মাস্টার! কেনো?
আমার কথা নয়, হয়রত হাফেজ্জী হুযুর রাহ. এর কথা। আগে বলেন নি। আগে শুধু বলতেন গ্রামে গ্রামে মকতব কায়েম করার কথা। সিয়াসতের ময়দানে এসে তাঁর কঠিন একটা উপলব্ধি হয়েছিলো। সেই উপলব্ধি থেকে তিনি বলেছেন, ”কাউমের মগজগুলা আমাদের হাতে আসে না। দুশমন আমাদের কাউমের মগজগুলা নিয়া যায়। আমাদের এখন ‘নূরানী প্রাইমারি স্কুল’ করা দরকার।”
অন্তত এবার কি আমরা একথাগুলো ভাববো? সুদূরপ্রসারী কোনো কর্মসূচী কি গ্রহণ করবো, যাতে ‘সাতহিয়্যাত’ ও উপরিতা নয়, থাকবে অনেক গভীরতা?
সময় ও সমাজের উপর ওলামায়ে উম্মতের প্রভাব কমে আসার আরেকটা কারণ বলি। যারা জানার তারা জানে, তবু বলি।
১৯৬৪ সালে ভারতে ‘মুসলিম মজলিসে মুশাওয়ারাত’ নামে সর্বস্তরের মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি অভিন্ন কর্মমঞ্চ (প্লাটফর্ম) তৈরী করা হয়েছিলো। ভারতব্যাপী বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিলো। হযরত মাওলানা সৈয়দ আবুল হাসান আলী নাদাবী রাহ. লিখেছেন, ‘মজলিসের পক্ষ হতে একবার বিরাট সংবাদ-সম্মেলনের আয়োজন করা হলো, বহু সাংবাদিক উপস্থিত হলেন। অনেক কথা হলো, সওয়াল-জওয়াব হলো। কিন্তু পরদিন দেখা গেলো, কোনো পত্রিকায় সংবাদ-সম্মেলনের খবর আসে নি।’ সংবাদপত্রের ভাষায়, ‘না ডবল কলামে, না সিঙ্গেল কলামে!’ হিন্দু প্রেস পুরো বিষয়টা চেপে গেছে।
এবার আমাদের দেশের উদাহরণ এবং মাত্র কয়েক বছর আগের। জনাব এরশাদ সাহেব শাপলাচত্বরে আলেম ওলামাদের পানি পান করিয়েছেন, তাকে ধন্যবাদ। তার সামরিক শাসনকালে হযরত হাফেজ্জী হুযূর রহ. সংসদভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউতে মহাসমাবেশ করেছিলেন। বাংলাদেশের প্রথম রাজবন্দী মরহূম মেজর আব্দুল জলিল তাতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সমাবেশের শেষদিকে, শায়খুল হাদীছ হযরত মাওলানা আযীযুল হক ছাহেব (রহ.) ঘোষণাপত্রের কিছু অংশ পাঠ করে সময়স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে বললেন, ‘কাল পত্রিকায় দেখে নেবেন।’ এবং ‘কাল পত্রিকায়’….।
কত নির্মম সত্য উচ্চারণ করেছেন মাওলানা সৈয়দ আবুল হাসান আলী নাদাবী (রহ.), ‘যে সম্প্রদায়ের হাতে প্রেস নেই, তাদের অধিকার রক্ষিত হওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।’ (মন্তব্যটি স্মৃতি থেকে লিখছি, শব্দের বেশকম হতে পারে।)
আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে যদি আমরা চেষ্টা শুরু করতাম সংবাদপত্র-জগতে প্রবেশ করার, হয়তো এ ভূখণ্ডের ইতিহাসই অন্যরকম হতো। হযরত ছদর ছাহেব রহ. সে চেষ্টা করেওছিলেন, কিন্তু খুব কাছের লোকেরা তাঁকে…। অধ্যক্ষ আব্দুর রজ্জাক ছাহেব কি এখন বেঁচে আছেন? অন্তত বিশবছর আগে শুধু এক ঝড়ের রাতে দেখা হয়েছিলো। তিনি শুনিয়েছিলেন সে বেদনাদায়ক ইতিহাস।
আমাদের দেশে প্রতিটি জামেয়ায় ফতোয়াবিভাগ আছে। যে মানেরই হোক, সেখান থেকে প্রতি বছর মুফতী ছাহেবান তৈয়ার হয়ে বের হচ্ছেন। কিন্তু সাংবাদিকতাবিভাগ নেই। এখনো মাসিক পত্রিকার অঙ্গনেই আমাদের বিচরণ ; কবে হবে পাক্ষিক, সাপ্তাহিক, তারপর দৈনিক? এবং সেটাও হতে হবে মুকাবেলায় টিকে থাকার মতো।
‘হেফাযতে ইসলাম’ যদি হয় আমাদের যিন্দেগির মাকছাদ, তাহলে যদিও অনেক বিলম্ব হয়ে গেছে, এখনই ভাবতে হবে এ বিষয়ে। গণমাধ্যম এখন কাগজের স্তর পার হয়ে চলে গেছে ইলেক্ট্রোনিক পর্যায়ে, অনলাইনযুগে। আমরা পড়ে আছি কোথায়! ‘রাত পোহাবার কতো দেরী পাঞ্জেরী?’
সমাজ ও জাতির মধ্যে কোনো সম্প্রদায়ের প্রভাব কীভাবে বৃদ্ধি পায় এবং নেতৃত্বের মর্যাদা কীভাবে অর্জিত হয়? সে সম্পর্কে ১৯৬২ সালে (আজ থেকে কতো বছর আগে!) এক বয়ানের মাধ্যমে আলেমসমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন হযরত মাওলানা যাফর আহমদ ওছমানী রহ.। সেটির সারসংক্ষেপ আটপৃষ্ঠার একটি পুস্তিকায় সঙ্কলন করেছিলেন ‘মুজাহিদে আযম’ হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরীদপুরী (ছদর ছাহেব) রহ.। পুস্তিকাটির নাম ‘খেদমতে খালক বা দুস্ত মানবতার সেবা’। কিছু উদ্ধৃতি দেখুন-
‘আমি আমার ওলামা ভাইদের খাছভাবে বলিতেছি, আপনারা খেদমত শেখেন, খেদমতের অভ্যাস করেন, আখলাক-চরিত্র উন্নত করেন, দেখিবেন আপনাদেরও ইজ্জত-সম্মান ফিরিয়া আসিবে।’ ‘খেদমত এমনই জিনিস যে, বিধর্মীরাও যদি খেদমত করে (এবং দুনিয়াবি মাকছাদেও যদি করে) তবে দুনিয়াতে তাহাদের তরক্কী হইবে। কিন্তু ঈমান না থাকার কারণে আখেরাতে তাহারা কিছুই পাইবে না। পক্ষান্তরে আপনারা খেদমত করিলে দুনিয়ায় উন্নতি হইবে, আর আখেরাতের ছাওয়াবও হাছিল হইবে।’
‘হযরত আমর ইবনুল আছ রা. নাছারাদের সম্পর্কে বলিয়াছেন, পাঁচটি গুণের কারণে শেষ যামানায় তাহাদের প্রাধান্য লাভ হইবে, তন্মধ্যে একটি গুণ হইল ইয়াতীম, বিধবা ও দুস্ত মানবতার সেবা।’
‘নবুয়ত লাভের পর নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুব পেরেশান তখন আমাদের আম্মা হযরত খাদীজা রা. তাঁহাকে সান্ত্বনা দিয়া বলিয়াছিলেন, ‘কিছুতেই না, আল্লাহর কসম, আল্লাহ কখনো আপনাকে অপদস্থ করিবেন না। আপনি তো সর্বদা আত্মীয়তা রক্ষা করেন এবং (অন্যের) বোঝা বহন করেন এবং জীবিকাবঞ্চিতকে জীবিকা দান করেন এবং মেহমানের মেযবানি করেন এবং দুস্ত ও বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করেন।’
তো যারা নবীর নেয়াবতের দায়িত্ব পালন করবেন তারা যদি আল্লাহ তা’আলার মদদ হাছিল করতে চান তাহলে তো এসকল নববী আখলাক ও চরিত্র অবশ্যই অর্জন করতে হবে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিছু নিশ্চয় করা হয় এবং এর সুফলও পাওয়া যায়, কিন্তু সময়ের প্রয়োজনে দ্বীনী তা’লীমকে যেমন নেছাব ও নেযামের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দান করা হয়েছে তেমনি খেদমতে খালকের বিষয়টিকেও জাতীয় পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে আনা অপরিহার্য। কিন্তু আফসোস, শুরু থেকেই বিষয়টিকে আমরা অবহেলা করে এসেছি। ফলে সমাজের বুকে আমাদের প্রভাব ও মর্যাদা লোপ পেতে চলেছে। আর শত্রু ‘মানবসেবা’র আড়ালে আমাদের দ্বীন-ঈমান বরবাদ করে চলেছে।
পাকিস্তান আমলের শেষ দিকে ঢাকার ডেমরা এলাকায় ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিলো। লালবাগ মাদরাসা থেকে ছাত্ররা ট্রাকবহরে বিপুল ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দুর্গতদের সেবায় ছুটে গিয়েছিলো। মানুষের ঘরবাড়ী তৈরী করে দিয়েছিলো। মনে পড়ে, আযাদ পত্রিকা ছবিসহ সপ্রশংস খবর ছেপেছিলো।
এবার তাজা ঘটনা। হেফাযতে ইসলামের নেতৃত্বে আমরা যখন শাহাবাগী নাস্তিকদের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি ব্যয় করে প্রতিরোধযুদ্ধে নিয়োজিত তখন গত ২২শে মার্চ শুক্রবার শহীদবাড়িয়া (বি, বাড়িয়া) এলাকায় প্রলয়ঙ্করী টর্নেডো আঘাত হানে। বহু মানুষ তাতে আহত-নিহত হয়; বহু গ্রাম বিব্ধস্ত হয়। সরকারী-বেসরকারী কোনো পক্ষই দুর্গতদের সাহায্যে তেমন এগিয়ে আসেনি। প্রধানমন্ত্রী গিয়েছেন পাঁচদিন পর, বিরোধীদলীয় নেত্রী আরো তিনদিন পর। দুর্গতদের শুধু সান্ত্বনা দিতে যাওয়া, তাতেও এতো বিলম্ব!
আফসোস, অভিভাবক পর্যায়ের কোনো আলিমের পক্ষ হতে অন্তত সমবেদনা প্রকাশ করে জোরালো কোনো বিবৃতিও আসেনি, সাহায্য-সহায়তা তো পরে। শাহাবাগীরা তো খায়র, নিজেরাই বেঁচে আছে খয়রাতি খাবারে। দুর্গত মানুষকে সাহায্য করা যে তাদের কর্ম নয় তা তো বুঝাই যায়। কিন্তু আমরা কেনো কিছু করলাম না!
‘হেফাযতে ইসলাম’ -এর মতো ‘হেফাযতে ইনসান’ কি আমাদের কাজ নয়? যদি আমরা কিছু করতাম, করতে পারতাম, জাতির কাছে আমাদের ভাবমর্যাদা কী হতো? হেফাযতে ইসলাম নামে যে কঠিন আন্দোলন, সেটাও কি কিছুটা সহজ হয়ে যেতো না?! উদাহরণটা যদিও তাৎক্ষণিক, কিন্তু আমি বলতে চাচ্ছি; খেদমতে খালকের চেতনা আমাদের অর্জন করতে হবে এবং স্থায়ীভাবে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ আঞ্জাম দিতে হবে।
মোটকথা, শক্তি ক্ষয় করে নয়, শক্তি সঞ্চয় করে আমাদের লড়াই করতে হবে বাতিলের বিরুদ্ধে। জাতির অবস্থা দেখে মনে হয়, দ্বীন ও ঈমানের হেফাযতের লড়াইটা শুধু আলিম-সমাজের। এজন্য দায়ী কিন্তু আমরা। আমাদের ‘কাউম-বিমুখ’ কাউমি শিক্ষাব্যবস্থা; জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ থেকে দূরে থাকা; দেশের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সংবাদ-অঙ্গনে আমাদের ‘নির্ভূমিকা’। জাতির বিপদ-দুর্যোগ, সমস্যা ও প্রয়োজন থেকে আমাদের বিচ্ছিন্নতা।
এখানে জনাব শরীফ মুহম্মদ – এর নাম উল্লেখ করতে হয়। কারো লেখায় ও কথায় মুগ্ধ হতে আমারর সময় লাগে, কিন্তু শরীফ মুহম্মদ সত্যি আমাকে মুগ্ধ করেছেন। কিছুদিন আগে হেফাযত বিষয়ে বিবিসি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো, একদিকে ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। অন্যদিকে ছিলেন আমাদের শরীফ মুহম্মদ। মাশা’আল্লাহ কী দরাজ গলা এবং শব্দের ঢল! যেমন তথ্য, তেমন যুক্তি, আর তেমনি উপস্থাপন! সারাটা অনুষ্ঠানে তার সামনে ইনু সাহেব যেনো একেবারে অসহায়ের মতো বসেছিলেন! শরীফ মুহম্মদ ঐ বিতর্কে পরিষ্কার ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন। তিনি যদি এই বিতর্কের অঙ্গনে একদল তরুণ তালেবানকে গড়ে তুলতে পারেন তাহলে উম্মতের বিরাট খেদমত হতে পারে। আল্লাহ তাওফীক দান করুন, আমীন।
এ লেখাটি লেখার সময় শহীদবাড়িয়ার টর্নেডো ছিলো আমার সামনে। তারপর তো গোটা জাতি সাভারের রানাপ্লাজার বিপর্যয়রূপে নযিরবিহীন এক দুর্যোগের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। তখনো কিন্তু আমরা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব আদায় করতে পারিনি। আমরা শুধু ইসলামের হিফাযত নিয়ে ব্যস্ত থেকেছি, ইনসানের হিফাযতের মাধ্যমেও যে হতে পারে ইসলামের হিফাযত, তখনো আমরা তা ভেবে দেখিনি। আবারও স্বীকার করছি, বিচ্ছিন্নভাবে, এমনকি দলবদ্ধভাবেও আলিমান ও তালিবান সাভারের দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আহত-নিহতদের উদ্ধার-তৎপরতায়ও প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন। মাদরাসাতুল মদীনার পক্ষ হতে আমরাও সীমিত আকারে খেদমতে শরীক হয়েছি। তাৎক্ষণিক ত্রাণতৎপরতা ছাড়াও দু’টি এতিম শিশুর আজীবন কাফালতের দায়িত্ব মাদরাসাতুল মাদীনাহ গ্রহণ করেছে। কিন্তু আমি বলতে চাচ্ছি যে, এগুলো হচ্ছে বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিত কিছু কাজ, জাতীয়ভাবে কোনো উদ্যোগ নিতে পারিনি। তখন যদি হিফাযতে ইসলামের নেতৃবর্গ সমস্ত আন্দোলন-তৎপরতা স্থগিত করে পূর্ণ উদ্যমে ত্রাণকর্মযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়তেন তাহলে তারা গোটা জাতির সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা অর্জন করতে সক্ষম হতেন।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণতহবিলে পত্রপত্রিকার হিসাবে সত্তর কোটিরও বেশী টাকা জমা পড়েছে। আশা করি সেগুলো ঠিকমতো বিতরিত হচ্ছে এবং হবে, যদিও ‘বঙ্গবীর’ জনাব আবদুল কাদের সিদ্দিকী বড় কঠিন মন্তব্য করে আসন্ন নির্বাচনের খরচের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। কিসের ভিত্তিতে তিনি এটা বলেছেন, তা তিনিই ভালো জানেন। আমি শুধু আমাদের কথা বলতে চাই, যদি হিফাযতে ইসলামের সর্বজনশ্রদ্ধেয় আমীর জাতীয় দুর্যোগকে সামনে রেখে একটি ‘হিফাযত-ত্রাণতহবিল’ -এর ঘোষণা দিতেন তাহলে কী হতো? আমার ধারণা, তাঁর প্রতি জাতির এই আস্থা আছে যে, খুব সহজেই একশ কোটি টাকা জমা হতো এবং দাতারা চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতেন যে, তাদের দেয়া প্রতিটি পয়সা ত্রাণকাজেই ব্যয় হবে। আমার তো মনে হয় এই একটি কাজ করেই আমরা আমাদের আন্দোলনের সফলতার পথে কয়েক বছর এগিয়ে যেতে পারতাম। (সাভার-দুর্যোগের প্রেক্ষিতে, আমাদের প্রতিপক্ষ কালবিলম্ব না করে মহিলাপোষাকশ্রমি কদের পরিকল্পিত সমাবেশ স্থগিত করেছিলো, আমরা করিনি। ফল কী হলো?)
মাওলানা আব্দুল মালিক ছাহেবের মাধ্যমে আমি সাধ্যমতো এদিকে মুরুব্বিদের দৃষ্টিআকর্ষণের চেষ্টা করেছি। কিন্তু আন্দোলনের শোরগোলে আমার দুর্বল আওয়ায শ্রুতই হয়নি। তার মধ্যে আবার অবতারণা হয়েছে ‘কপ্টার-ট্রাজেডি’র, যা ছিলো শত্রুর হাতে তুলে দেয়া মোক্ষম একটি অস্ত্র এবং আমাদের ধুরন্ধর শত্রু সেটা ভালোভাবেই ব্যবহার করেছে।
এখন তো শুনি, তাবলিগজামাতের ইজতিমার সুবিধার জন্য শাপলাচত্বরের সমাবেশ পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে, তখন সাভারের দুর্যোগও সমাবেশ পিছিয়ে দেয়ার উপযুক্ত কারণ বিবেচিত হয়নি। কে জানে, ‘তাকদীর’ এটা ভালো চোখে দেখেছে কি না!
সময় প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, তবে ফুরিয়ে যায়নি। কিছুটা সময় তাকদীরের পক্ষ হতে হয়তো এখনো আমরা পাবো। এখনো যদি আমরা শক্তি ক্ষয় করার আন্দোলনের পরিবর্তে, কিংবা এর পাশাপাশি শক্তি সঞ্চয় করার চেষ্টায় নিবেদিত হই, তাহলে এখনো হতে পারে আমাদের অবস্থার পরিবর্তন। অন্তত পুষ্পের তরুণ প্রজন্মের কাছে এটাই আমার নিবেদন।
ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগ।
 পুষ্প সমগ্র ২য় প্রকাশনার ভূমিকা