প্রিয় বোন! কেন পর্দা করবেন? – হযরত মাওলানা জুলফিকার আহমদ নকশবন্দী – ২য় পর্ব

দুই. হাদীসেপাক থেকে প্রমাণাদি:

হাফেজ ইবনু কাসীর রহ. তাঁর তাফসিরগ্রন্থে লিখেছেন, সতী ও ব্যক্তিত্বমান নারীদের নিদর্শন হল, ঘোমটা। যাতে করে দুষ্টুপ্রকৃতির ফাসেকরা তাকে উত্যক্ত ও বিরক্ত করতে না পারে। হযরত ইবনু আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত,

اَمَرَ اللهُ نِسآءَ الْمُؤْمِنِيْنَ اِذَا خَرَجْنَ مِنْ بُيُوْتِهِنَّ فِىْ حَاجَتِهِنَّ اَنْ يُّغَطِّيْنَ وُجُوْهَهُنَّ مِنْ فَوْقِ رُءُوْسِهِنَّ بِالْجَلَابِيْبِ وَيُبْدِيْنَ عَيْنًا وَاحِدَةً

‘আল্লাহতাআলা মুমিননারীদের নির্দেশ দিয়েছেন, যখন তারা ঘর থেকে প্রয়োজনে বের হবে, তখন যেন নিজেদের চেহারা মাথার দিক থেকে চাদর-ওড়না দ্বারা ঢেকে নেয় এবং একটিমাত্র চোখ খোলা রাখে।’ (তাফসিরে ইবনুকাসীর ৩/ ৫১৯)

এর দ্বারা বোঝা গেল, পর্দাহীনতা ভদ্র, সতী ও আত্মমর্যাদা বোধসম্পন্ন নারীর কাজ নয়।

এক. হাদীসে এসেছে,اَلْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ ‘নারী গোপনে থাকার জিনিস।’ সুতরাং পরপুরুষ থেকে আড়ালে রাখা নারীদের দায়িত্ব। যদি ঘরে অবস্থান করে আড়ালে থাকে তাহলে এটা সবচাইতে উত্তম। যাতে কোনো পরপুরুষ তার চালচলন ইত্যাদি মোটেই না দেখে। শরিয়তসমর্থিত প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়লে দেহ ও পোশাকের সাজসজ্জা চাদর ও বোরকা ইত্যাদি দ্বারা ঢেকে রাখবে। যাতে প্রবৃত্তির পূজারী কোনো পুরুষের দৃষ্টি না পড়ে এবং যেন সে এই নারীর ইজ্জত নষ্ট করার প্রোগ্রাম করতে না পারে।

দুই. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একবারের ঘটনা। আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দরবারে উপস্থিত ছিলাম। রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবায়েকেরামকে প্রশ্ন করলেন, مَا خَيْرٌ لِلنِّسآءِ؟ ‘নারীদের জন্য কোন জিনিস উত্তম?’ সাহাবায়েকেরাম চুপমেরে থাকলেন। কোনো উত্তর দিলেন না। ইত্যবসরে আমি ঘরে গিয়ে ফাতেমার কাছে অনুরূপ প্রশ্ন করলাম। তিনি উত্তর দিলেন, خَيْرٌ لَّهُنَّ اَنْ لَا يَرَيْنَ الرِّجَالَ وَلَا يَرَوْهُنَّ‘মহিলাদের জন্য উত্তম হল, তারা পুরুষদের দেখবে না এবং পুরুষরাও তাদের দেখবে না।’ আমি উত্তরটি নবীজীকে শোনালাম। তখন তিনি খুশি হয়ে বললেন,اِنَّهَا بِضْعَةٌ مِّنِّىْ ‘সে (ফাতেমা) তো আমার দেহের অংশ।’ (মাআরিফুল কুরআন ৭/ ১৬)

তিন. রাসূল ﷺ বলেছেন, اَلْحَيآءُ مِنَ الْاِيْمَانِ. ‘লজ্জা ঈমানের অংশ।’ পর্দার উদ্দেশ্য হল, লজ্জা। নারীপ্রকৃতিতেই লজ্জা আছে। নারী যখন প্রকৃতির পরিপন্থী কাজ করে তখন লজ্জাহীন হয়ে পড়ে। তখন সে লজ্জা-শালীনতাকে একপাশে রেখে দেয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, اِذَا لَمْ تَسْتَحْىِ اِعْمَلْ مَا شِئْتَ‘লজ্জা না করলে যা ইচ্ছে তা-ই করবে।’ (মিশকাত ৩/৩০৭)

এর দ্বারা বোঝা গেল, লজ্জাহীনতাই পর্দাহীনতার কারণ। আল্লাহ তাআলা কাউকে লজ্জার মত মহান নেয়ামত থেকে বিমুক্ত না করুন। আমীন।

চার.  রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, اِنَّ الْمَرْأَةَ عَوْرَةٌ فَاِذَا خَرَجَتْ اِسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ‘নারী গোপনজিনিস, যখন সে ঘর থেকে বের হয় শয়তান তাকে চুপিসারে দেখে।’ (ইবনু কাসীর ৩/৪৮২)

শয়তান চুপিসারে দেখার দুই অর্থ হতে পারে। এক. শয়তান তাকে ঘর থেকে বের হতে দেখলে এই ভেবে আনন্দিত হয় যে, এখন তাকে পরপুরুষের প্রতি এবং পরপুরুষকে তার প্রতি আকৃষ্ট করা সহজ হবে। শয়তান ওই নারীকে কুদৃর্ষ্টির জালে এবং পরপুরুষকে ওই নারীর জালে এভাবেই ফাঁসিয়ে ফেলে। দুই. কিছু লোক শয়তানপ্রকৃতির; প্রবৃত্তির পূজার মধ্যে জীবনযাপন করে। এরা নারীকে ঘর থেকে বের হলে কুদৃষ্টি দেয়। এই টাইপের দুষ্টু ও বখাটে লোকগুলো শয়তানের প্রতিনিধি হয়ে থাকে। এদের চুপিসারে দেখাটাকেই শয়তানের চুপিসারে দেখা বলা হয়েছে।

পাঁচ. প্রিয় নবী ﷺ বলেছেন, مَا تَرَكْتُ بَعْدِىْ فِتْنَةً اَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَآءِ‘আমার চলে যাওয়ার পর পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে বড় ফেতনা আমি দেখি নি।’ (মুত্তাফাক আলাইহি, মিশকাত, কিতাবুননিকাহ)

এর দ্বারা বোঝা গেল, পুরুষদের জন্য সবচে’ বড় পরীক্ষার নাম হল ‘নারী’। ফকিহগণ লিখেছেন, পর্দা ফরজ হওয়ার ভিত্তি হল ফেতনা, এজন্য বৃদ্ধনারী যাদেরকে দেখলে যৌনকামনা সৃষ্টি হয় না, তাদের চেহারার পর্দার ব্যাপারে ছাড় দেয়া হয়েছে। সৃষ্টিজাত কারণেই যুবতীদের প্রতি পুরুষদের আকর্ষণ বেশি প্রবল হয়, সুতরাং যুবতীদের পর্দা করা বেশি জরুরি। কোনো মহিলা বিশেষ কোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে চাইলে পর্দার সাথে বের হওয়া আবশ্যক, যাতে শয়তান পরপুরুষকে ফেতনায় ফেলতে না পারে।

ছয়. ইমাম আহমাদ রহ. হযরত আয়েশা রাযি. সূত্রে বর্ণনা করেন,

كُنْتُ اَدْخُلُ بَيْتِىَ الَّذِىْ فِيْهِ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَ اِنِّىْ وَاضِعٌ ثَوْبِىْ وَاَقُوْلُ اِنَّمَا هُوَ زَوْجِىْ وَاَبِىْ (مَدْفُوْنَانِ فِيْهِ)

‘নবীজী ﷺ-কে যে কক্ষে দাফন করা হয়েছে, আমি যখন সেখানে প্রবেশ করতাম, তখন আমার চাদর রেখে দিতাম। ভাবতাম, এখানে তো শুধু আমার স্বামী ও বাবা (দাফনকৃত) রয়েছেন। কিন্তু যখন উমর রাযি.কে দাফন করা হল, তখন আল্লাহর শপথ! তাঁকে লজ্জার কারণে খুব ভালোভাবে পর্দা করে নিতাম।’

এ থেকে পর্দার গুরুত্ব অনুমান করা যায়। হযরত আয়েশা রাযি. তো কবরে দাফনকৃত ব্যক্তি থেকেও পর্দা করেছেন। অথচ বর্তমানের পর্দাহীন নারীরা জ্যান্ত-পুরুষের সামনেও পর্দা করে না। ধার্মিকনারীদের জন্য আয়েশা রাযি. এর আমলটিতে রয়েছে আলোর মিনার।

সাত. হাদীস শরীফে রয়েছে,

وَكَانَتْ حَفْصَةُ وَعَائِشَةُ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا يَوْمًا عِنْدَ النَّبِىِّ ﷺ جَالِسَتَيْنِ فَدَخَلَ اِبْنُ أُمِّ مَكْتُوْمٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ فَقَالَ النَّبِىِّ صَلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِحْتَجِبَا مِنْهُ. فَقَالَتَا يَا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ اَلَيْسَ هُوَ اَعْمى لَا يُبْصِرُنَا وَلَا يَعْرِفُنَا فَقَالَ اَفَعَمْيَاوَانِ اَنْتُمَا اَلَسْتُمَا تُبْصِرَانِه.

‘একবার উম্মত জননী হাফসা ও আয়েশা রাযি. নবীজী ﷺ-এর কাছে বসা ছিলেন। ইত্যবসরে আব্দুল্লাহ ইবনু উম্মেমাকতুম রাযি. প্রবেশ করলেন। তিনি অন্ধ সাহাবী ছিলেন। নবীজী ﷺ উভয়কে বললেন, পর্দা কর। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ﷺ! ইনি কি অন্ধ নন? আমাদেরকে দেখেন না, চেনেনও না। তখন নবীজী ﷺ বললেন, ‘তোমরাও কি অন্ধ? তোমরা কি তাকে দেখছ না?’ (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, যাহাবীকৃত আলকাবাইর, পৃষ্ঠা : ১৮৮)

পর্দার গুরুত্ব বোঝানোর জন্য এরচেয়ে স্পষ্ট ও বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে!

তিন. যৌক্তিক প্রমাণাদি:

এক. জনৈক বুযুর্গ লাহের থেকে জ্যাকববাদে রেলপথে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে স্যুট-কোট পরা এক যুবক ওঠল। কিছুক্ষণপর যুবকটি বুযুর্গকে জিজ্ঞেস করল, আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি একজন দীন- ইসলামের আলেম। অনুমতি হলে আপনাকে প্রশ্ন করতে পারি কি? বুযুর্গ উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, প্রশ্ন কর। যুবক প্রশ্ন করল, ইসলাম নারী-পুরুষকে একসাথে কাজ করার অনুমতি দেয় না কেন? বুযুর্গ কুরআন-হাদীসের আলোকে প্রশ্নটির বেশ কয়েকটি উত্তর পেশ করলেন, কিন্তু যুবকটির মন আশ্বস্ত হল না। সে বলল, আপনি আমাকে যুক্তি দিয়ে বিষয়টি বোঝান। তখন বুযুর্গ বোঝালেন, নারী-পুরুষ একসঙ্গে কাজ করলে একে অপরের প্রতি আসক্ত হবে। যার কারণে অনেক আনন্দঘন সংসার ভেঙ্গে যাবে। কুমারীমেয়েরা বিয়ে ছাড়াই মা হয়ে যাবে। সমাজের কাঠামো ভেঙ্গে পড়বে। যুবক বলল, যদি মানুষ নিজের মনকে কন্ট্রোল করে চলে তাহলে সহশিক্ষা ও একসঙ্গে চাকরির মধ্যে সমস্যা কোথায়? যুবকের কথায় বুযুর্গ বুঝে নিলেন, সোজা আঙ্গুলে ঘি ওঠবে না। আঙ্গুল বাঁকা করতে হবে। যুবক তো দেখি বুদ্ধির দিক থেকে অন্ধ। বিবেকে তালা পড়ে আছে। সুতরাং একে অন্যভাবে বোঝাতে হবে। বুযুর্গের ব্যাগে লেবু ছিল। লেবুটি বের করে চার টুকরো করলেন এবং চুষতে লাগলেন। তখন ছিল গ্রীস্মকাল। যুবক প্রচÐ গরমে হাঁপিয়ে ওঠেছিল এবং বুযুর্গের লেবুচোষার দিকে লোভাতুর দৃষ্টিতে দেখতে লাগল। বুযুর্গ বললেন, কী দেখছ? যুবক উত্তর দিল, লেবু দেখে মুখে পানি চলে এসেছে। এবার বুযুর্গ বললেন, এখন তোমার মন কন্ট্রোল করার বিষয়টির কী হয়েছে? যেমনিভাবে লেবু দেখলে মুখে পানি চলে আসে, অনুরূপভাবে যুবকরা পরনারীকে দেখলে তাদের অন্তরে গুনাহর চিন্তা চলে আসে। এটাই ব্যভিচারের কারণ হয়। ইসলামধর্ম এই মন্দপথটিকে বন্ধ করে দেয়ার লক্ষে নারীদেরকে নির্দেশ দিয়েছে, প্রথমত ঘরেই অবস্থান কর। দ্বিতীয়ত একান্ত প্রয়োজনে বাইরে যেতে হল পর্দাসহ যাও। যেন পরপুরুষের দৃষ্টি না পড়ে এবং কোনো বিপদে পড়তে না হয়। বুযুর্গের কথা শুনে যুবক লজ্জায় মাথা নত করে নিল।

দুই. যদি কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয় এক লাখ টাকা একশহর থেকে অন্যশহরে কারো কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তখন সে প্রথমত পটেকমারের ভয় করবে যে, আমার পকেট থেকে টাকাগুলো উধাও হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া চোর-ডাকাত জানতে পারলে টাকা তো যাবেই, পাশাপাশি প্রাণ হারানোর আশঙ্কাও আছে। সুতরাং ব্যাংক ইত্যাদির মাধ্যমে ট্রান্সফার করে দিলেই ভালো হয়, যাতে কেউ টের না পায়। এরপরও যদি সে সশরীরে পৌঁছিয়ে দিতে বাধ্য হয় তাহলে টাকাগুলো সে গোপন পকেটে বা স্থানে রেখে গোটা রাস্তায় টেনশনে থাকবে। এমনটি মোটেও হবে না যে, সে টাকাগুলো বের করে স্টেশনের মানুষগুলোর সামনে নাচাবে। কারণ, এটা হবে বোকামিপূর্ণ আহŸান যে, আসো, আমার টাকাগুলো লুটে নাও।
অনুরূপভাবে একজন সতীনারী ঘরের বাইরে যাওয়ার আগে প্রথমত শঙ্কাবোধ করে যে, আমি খামোখা বাইরে যাব কেন। এরপরেও যদি সে ঠোকাবশতঃ বাইরে যায় তাহলে পর্দার সঙ্গে যায় এবং সারাপথ দুশ্চিন্তায় থাকে যে, কোনো দুষ্টপ্রকৃতির লোক আমার পেছনে যেন না লাগে। এটা মোটেও হতে পারে না যে, সে পরপুরুষদের সামনে নিজের রূপ-সৌন্দর্য প্রকাশ করবে এবং নিজের ইজ্জত হুমকির মুখে ফেলে দিবে। যদি কোনো বখাটেলোকের কুদৃষ্টি পড়ে তাহলে যেন সম্ভ্রমের ওপর কেউ হস্তক্ষেপ করতে না পারে। যেসব মেয়ে ফ্যাশন করে পর্দাহীনভাবে বাজারে মার্কেটে ঘুরঘুর করে তাদের সম্ভ্রমহানির ঘটনা প্রতিদিনের সংবাদপত্রগুলোর ‘চাটনি’ হয়। তারা অন্যদেরকে তামাশা দেখাতে দেখাতে নিজেরাই অন্যদের তামাশার পাত্র বনে যায়।
তিন. কসাইয়ের দোকান থেকে কয়েক কেজি গোশত কেনার পর তা থলের ভেতরে ঢুকিয়ে বাড়িতে নেয়া হয়। প্লেটে কিংবা মাথায় করে গোশত নেয়ার ঘটনা কখনও ঘটে না। কারণ এতে চিল, কাক গোশত ছোঁ মেরে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনুরূপভাবে পঞ্চাশ কেজি ওজনের একটি মেয়ে যদি ঘর থেকে বেপর্দা অবস্থায় বের হয়, তাহলে মানুষরূপী হায়েনাগুলো তার আশেপাশে ঘুরঘুর শুরু করে। অনেক সময় তো এরা গোটা পঞ্চাশ কেজিকেই গায়েব করে দেয়। এজন্য সতীনারীরা পর্দায় আবৃত হয়ে বের হন। যাতে তার জান-মাল, ইজ্জত-আব্রæর ওপর কোনো হায়েনা হামলে পড়তে না পারে। ভাবনার বিষয় হল, যারা নিজেদের মেয়েদেরকে বেপর্দা অবস্থায় ছেড়ে দেয় তাদের কাছে মেয়ের মূল্য কি কয়েক কেজি গোশতের সমানও নয়! দুঃখজনক ব্যাপার হল, পাখি গোশত নিয়ে গেলে ক্ষতি হয় অতিসামান্য, যার ক্ষতিপূরণ অসম্ভব নয়। পক্ষান্তরে মেয়ের ইজ্জত নিয়ে গেলে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া আদৌ সম্ভব নয়। তখন হয়ত মনে মনে বলে ওঠবে,

اب پچهتاۓ كيا ہوت
جب چڑ يا ں چك گئ كهيت
‘এখন আফসোস করে লাভ কী,
চড়ুইগুলো ক্ষেততো উজাড় করে ফেলেছে।’

চার. আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মানুষকেই আত্মমর্যাদা বোধসম্পন্ন করে সৃষ্টি করেছেন। পরপুরুষ তার ঘরের মহিলাদের প্রতি কুদৃষ্টি দেয়াকে সে একদম সহ্য করতে পারে না। কোনো পরপুরুষ তার আপন কোনো নারীকে উত্যক্ত করতে দেখলে সে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। নখ-দাঁত খিচিয়ে মারামারি করার জন্যও উদ্যত হয়। এমনও ঘটনা ঘটে যে, এর জের ধরে স্বামী স্ত্রীকে, পিতা মেয়েকে, ভাই বোনকে, ছেলে মাকে হত্যা করে বসে। এ জাতীয় ঘটনা আমরা প্রতিদিনই সংবাদপত্রে পড়ি। সুতরাং একজন নারীর পর্দাহীনতা কয়েকটি পরিবারের সম্মানকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারে। অতএব মানুষের সৃষ্টিজাত ও ঈমানী আত্মমর্যাদাবোধের দাবি হল, নারী পর্দার সঙ্গে বের হবে এবং পুরুষ নিজের দৃষ্টিকে নামিয়ে রাখবে, যেন সমাজে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে না পড়ে।

পাঁচ. রাসূলুল্লাহ ﷺ নারীদের সম্পর্কে বলেছেন, نَاقِصَاتُ الْعَقْلِ وَالدِّيْنِ‘বুদ্ধিমত্তা ও দীনের দিক থেকে অসম্পূর্ণ।’ (মিশকাত ১/১৪)

নারীদের স্বভাব হল, তারা সাধারণত ফেঁসে যায় তাড়াতাড়ি, ফাঁসিয়েও দেয় তাড়াতাড়ি। নারী অনেক নামি-দামি, জ্ঞানী-গুণীর বিবেকেও সহজেই আবরণ ফেলে দিতে পারে। নারীরা আবেগপ্রবণ হওয়ার কারণে তড়িৎগতিতে তাদের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসে। এ জন্য পবিত্র শরিয়ত তালাকের অধিকার পুরুষদেরকে দিয়েছে। ধরে নেয়া যাক, যদি এ অধিকার নারীকে দেয়া হত, তাহলে দিনে সত্তরবার তালাক পড়ত, আবার সত্তরবার তা ফেরত নেয়া হত। নারীরা কারো ওপর সন্তুষ্ট হলে সবকিছু তার জন্য বিলিয়ে দিতে কুণ্ঠিত হয় না। আবার অসন্তুষ্ট হলে তার জিন্দামুখও দেখতে চায় না। ঘরের ভেতরে বাড়াবাড়িও নিজে করে, আবার বাইরে নিজেকে নির্যাতিত হিসাবে পেশ করে। একটা কাজ করতে মনে মনে আগ্রহী থাকে, কিন্তু যবানে ‘না-না’ বলে। পান থেকে চুল খসলে স্বামীর সারাজীবনের মায়া-মমতার ওপর পানি ঢেলে দেয়। বলে বসে, আমি তোমার সংসারে এসে কী-ই বা দেখেছি, সব নিজের জন্য করছ, আমার জন্য কিছুই না। মামুলি বিষয়েও অভিশাপের ঝাঁপি খুলে বসে। দুর্বল হলে নিজের মরার প্রার্থনা শুরু করে। সম্পদের প্রতি ভালোবাসা অতিরিক্ত প্রবল। গোস্বা ও হিংসার আগুনে জ্বলে-পুড়ে ভূনা-কাবাব হয়ে যায়। এতটাই ফ্যাশনপ্রিয় যে, নিজের পোশাকের মত আরেকজনের পোশাক না হওয়ার কামনা করে। প্রশংসা শুনলে ফুলে-ফেঁপে ওঠে। শত্রæকে বন্ধু এবং বন্ধুকে শত্রæ মনে করে বসে। স্বভাবের এহেন অস্থিরতার কারণে বলা হয়, নারীর বুদ্ধিমত্তা পরিপূর্ণ নয়; অপূর্ণ। সুতরাং তার জন্য ঘরের চারদেয়ালেই শ্রেয়। বাইরে বের হতে চাইলে পর্দার সাথে বের হবে। মাহরামের সঙ্গে বের হবে। যাতে সে কারো ঈমান নষ্ট না করে এবং কেউ তার সম্ভ্রম নষ্ট না করে।

শরঈ পর্দার তিনটি স্তর:

কুরআন মজিদের বিভিন্ন আয়াত মন্থন করলে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, শরঈ পর্দার তিনটি স্তর রয়েছে। প্রথমটি সবচে’ উত্তম স্তর। দ্বিতীয়টি মধ্যম স্তর। তৃতীয়টি নিম্নস্তর। বিভিন্ন নারীর জন্য বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এর কোনো না কোনোটির ওপর আমল করা অপরিহার্য। শরিয়ত মানুষের অবস্থার কথা বিবেচনা করে এক্ষেত্রে কিছু অবকাশ বা সুযোগ রেখেছে। পর্দার মূল বুনিয়াদ হল, ফেতনা নির্মূল করা। পর্দার ব্যাপারে যতটুকু সতর্কতা অবলম্বন করলে ফেতনা থেকে বাঁচা যায় ততটুকু অবলম্বন করাই অধিক নিরাপদ।

এক. উত্তম স্তর-ঘরে অবস্থান করা :

আল্লাহ তাআলা বলেছেন, وَقَرْنَ فِىْ بُيُوْتِكُن‘তোমরা নিজেদের ঘরে অবস্থান কর।’ সুতরাং নারীদের জন্য পর্দার সবচে’ উত্তম পদ্ধতি হল, ঘরের চারদেয়ালের ভেতরে সময় অতিবাহিত করবে। নিজের ঘরকে জান্নাত মনে করবে। নারীরা ঘরকন্নার কাজ, যিকির ও ইবাদত থেকে ফারেগ হওয়ার পর ঘরের বারান্দায় খেলাধুলা করতে পারে। মেয়েরা কানামাছি, দড়ি লাফালাফি, দোলনায় দোল খাওয়া, টুকটাক ব্যায়াম, ট্রেডমল মেশিনে দৌড়জাতীয় খেলাধুলা করতে পারে। বারান্দা ছোট হলে ছাদে পর্দার ব্যবস্থা করে এগুলো করা যেতে পারে। এতে একটু ব্যায়ামের সুযোগও হবে এবং নিজেদের রমণীয়জগতে মগ্নও থাকতে পারবে। এতে কোনো ভয় নেই, টেনশন নেই। শরঈসীমানায় থেকে শরীরচর্চার প্রয়োজনও পূরণ করতে পারবে। বেশিরভাগ মহিলাই ঘরদোড় ঝাড়– দেয়া, গোছগাছ করা, কাপড়-চোপড় ধোয়া, ইস্ত্রি করা, রান্নাবান্না করা, পয়-পরিষ্কার ইত্যাদি গৃহস্থালি কাজগুলো করার পর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত ব্যায়ামের প্রয়োজনই অনুভব করে না। সুতরাং বোঝা গেল, ঘরে অবস্থান করেই তাদের অধিকাংশ প্রয়োজন পূরণ হয়ে যায়। যেসব নারী সবকাজ পর্দাপালনের নিয়তে ঘরের ভেতরেই সেরে নেয়, এরা ওলির মর্যাদা ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ লাভকারী হয়।

দুই. মধ্যম স্তর-বোরকা দ্বারা পর্দা:

ঠেকাবশতঃ বাইরে যেতে হলে বোরকা বা চাদর দ্বারা ভালোভাবে আচ্ছাদিত হয়ে বের হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, يُدْنِيْنَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيْبِهِنَّ‘তারা যেন নিজেদের চাদর জড়িয়ে নেয়।’

এই যুগের পর্দানশীন নারীরা বোরকা পরে শরীর ঢেকে নেয়। মোজা পরিধান করে হাত-পায়ের সৌন্দর্য ঢেকে নেয়। কিছু কিছু এলাকায় শাটলককের বোরকা ব্যবহার করা হয়। এগুলো সবই আলোচ্য আয়াতে উল্লেখিত ‘জিলবাবের’র অন্তর্ভুক্ত। এরূপ বোরকা পরিধানের কারণে গঠনাকৃতি, অবয়ব পরপুরুষ কিছুটা অনুমান করতে সক্ষম হলেও যেহেতু রূপ-সৌন্দর্য গোপন থাকে, তাই ফেতনার আশঙ্কা কম থাকে। এক্ষেত্রে একটি সতর্কতা জরুরি তা হল, বোরকা এতটা ডিজাইনেবল যেন না হয় যে, কেউ দেখলে মনে করবে, ভেতরে হয়ত ‘হূরের সন্তান’ আছে। বর্তমানের পুরুষদের লোভাতুর দৃষ্টি শরীরের কোথাও না পড়লেও হাত-পা দেখেই সৌন্দর্যের পরিমাপ করে ফেলে। এজন্য হাত-পা ঢেকে রাখার প্রয়োজন আছে। এটা পর্দার মাধ্যমস্তর। এ স্তরের ওপর যারা আমল করে তাদেরকেও তাকওয়ার ওপর আমলকারীণী হিসাবে গণ্য করা হবে।

তিন. নিম্নস্তর-ঠেকার পরিস্থিতির পর্দা:

পর্দার সর্ব নিম্নস্তর হল, নারী ঠেকায় পড়ে ঘর থেকে বের হওয়া এবং চাদর বোরকা ওড়না এমনভাবে পরিধান করা যে, অপারগতার কারণে তার হাত-পা চেহারা খোলা থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন,وَلَا يُبْدِيْنَ زِيْنَتَهُنَّ اِلَّا مَاظَهَرَ مِنْهَا‘তারা নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ করবে না। তবে যা এমনিতেই প্রকাশ পেয়ে যায়।’
নারীদের জন্য জায়েয নেই তাদের সৌন্দর্যের কোনো কিছু পরপুরুষের সামনে প্রকাশ করা। তবে এমনিতেই প্রকাশ পেয়ে গেলে ভিন্ন কথা। অর্থাৎ কাজকর্ম, চলফেরা ইত্যাদির সময় যা কিছু সাধারণত খুলে যায় এবং এ জাতীয় পরিস্থিতিতে যা ঢেকে রাখাটা সমস্যার কারণ হয়, তা দেখা গেলে কোনো গুনাহ নেই। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযি. বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, হাতের তালু ও চেহারা। তবে তা কেবল ওই সময় যখন ফেতনার আশঙ্কা থাকবে না। যদি ফেতনার আশঙ্কা থাকে তাহলে ফকিহগণ এ ব্যাপারে একমত যে, চেহারা ও হাতের তালু খোলা রাখাও জায়েয নেই।
সুতরাং আয়াতটি দ্বারা এটা প্রমাণ হয় যে, লেনদেনের প্রয়োজনে নারী নিজের হাত-পা ও চোখ খোলা রাখলে কোনো গুনাহ হবে না। তবে আয়াতটি থেকে এটা মোটেও প্রমাণ হয় না যে, পুরুষের জন্য এসব অঙ্গ দেখা জায়েয। দৃষ্টি সংযত রাখার বিধান পুরুষদের বেলায় সবসময়ের জন্য। শরিয়তসমর্থিত প্রয়োজন ছাড়া নারীর হাত-পা চেহারা পুরুষরা দেখতে পারবে না।

চেহারার পর্দা:

বর্তমানে তথাকথিত কিছু প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবিদের পক্ষ থেকে এই অপপ্রচার করা হচ্ছে যে, ইসলামে পর্দার বিধান আছে, তবে চেহারার পর্দা এই বিধানের আওতায় পড়ে না। অথচ রূপ-সৌন্দর্যের মূল কেন্দ্রবিন্দুর নাম চেহারা। বর্তমান যুগ ফেতনা ফ্যাসাদ ও নৈতিকঅবক্ষয়ের যুগ। এই যুগে তো চেহারা ঢেকে রাখার প্রয়োজন বেশি। চিকিৎসা, আদালতে সাক্ষী দেয়া, পরিচিতি পেশ করাÑ এজাতীয় শরিয়তসম্মত জরুরত ছাড়া চেহারা খোলার অবকাশ নারীদের ক্ষেত্রে মোটেও নেই। এবিষয়ে কিছু প্রমাণ নিম্নে পেশ করা হল–

এক. কুরআন মজিদে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছেفَاسْئَلُوْهُنَّ مِنْ وَّرَآءِ حِجَابٍ ‘তাদের কাছে কিছু চাওয়ার থাকলে পর্দার আড়াল থেকে চাও’। এর মাধ্যমে স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে, চেহারা ঢেকে রাখাও জরুরি। চেহারা প্রকাশ করার সুযোগ যদি থাকত তাহলে পর্দার আড়াল থেকে কথাবার্তা বলার এই নির্দেশ অর্থহীন হত।

দুই. যখন يُدْنِيْنَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيْبِهِن ‘তারা যেন মাথার দিক থেকে নিজেদের ওপর ওড়না-চাদর টেনে দেয়।’ পর্দার এ আয়াত নাযিল হল, তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র স্ত্রীগণকে শিখিয়ে দেয়া হল, তারা যেন সাহাবায়েকেরামের কাছ থেকে নিজেদের চেহারা ঢেকে রাখেন। এটা কে বলতে পারবে যে, তাঁরা খোলা মাথায় (নাউযুবিল্লাহ) চলাফেরা করতেন, আর পর্দার আয়াত দ্বারা তাদেরকে মাথা ঢাকার নির্র্দেশ দেয়া হয়েছে! এটা কেউই বলতে পারবে না।
ইবনু আব্বাস রাযি. উক্ত আয়াতের তাফসিরে বলেন, আল্লাহ তাআলা মুসলিম নারীদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যখন তারা প্রয়োজনের তাগিদে বাইরে যাবে তখন তারা যেন মাথার ওপরের চাদর টেনে দিয়ে চেহারাও ঢেকে নেয়। (তাফসিরে ইবনু জারীর)
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু সীরিন রহ. উবাইদা ইবনু ফিয়ান ইবনুল হারেছকে জিজ্ঞেস করেছেন, উক্ত বিধানের ওপর আমল করার পদ্ধতি কী? তিনি চাদর জড়িয়ে বলে দিলেন এবং তখন তিনি নিজের কপাল, নাক ও একচোখ ঢেকে শুধু এক চোখ খোলা রেখেছিলেন। (প্রাগুক্ত)

তিন. আবু দাউদ, তিরমিযি, মুয়াত্তা প্রভৃতি হাদীসগ্রন্থে লেখা আছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইহরাম অবস্থায় মহিলাদেরকে চেহারা ঢাকা ও মোজা পরিধান থেকে নিষেধ করেছেন। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয়, ওই পবিত্রযুগে চেহারা ঢাকার জন্য নেকাব ও হাত ঢাকার জন্য হাতমোজা ব্যবহারের প্রচলন ব্যাপক ছিল।

চার. হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, আমরা নারীরা যখন ইহরাম অবস্থায় রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সঙ্গে থাকতাম এবং পুরুষরা আমাদের পাশ দিয়ে যেত তখন আমরা নিজেদের চাদর মাথার দিক থেকে চেহারার দিকে টেনে দিতাম। পুরুষরা চলে যাওয়ার পর মুখ খুলতাম। (আবু দাউদ)

পাঁচ. যাওয়াজিরগ্রন্থে ইবনু হজর মক্কী রহ. ইমাম শাফিঈ রহ.-এর রায় উল্লেখ করেন যে, যদিও নারীদের চেহারা, হাতের কবজি ঢেকে রাখা ফরজবিধানের আওতায় পড়ে না; এগুলো খোলা রেখেও নামায হয়ে যায়। তবে পরপুরুষের জন্য শরিয়তসিদ্ধ কোনো প্রয়োজন ছাড়া এগুলো দেখা বৈধ নয়। অর্থাৎ নারীরা বিনাকারণে এগুলো পরপুরুষকে দেখাতে পারবে না।

ছয়. ইমাম মালিক রহ.-এর প্রসিদ্ধ রায় এটাই যে, পরনারীর চেহারা ও হাতের কবজি শরিয়তসম্মত ওযর ছাড়া দেখা নাজায়েয।

সাত. আল্লামা শামী রহ. নিজের ফতওয়াগ্রন্থে লিখেছেন,

وَالْمَعْنَى تُمْنَعُ مِنَ الْكَشْفِ بِخَوْفِ اَنْ يَّرَى الرِّجَالُ وَجْهَهَا فَتَقَعُ الْفِتْنَةُ لِاَنَّهُ مَعَ الْكَشْفِ قَدْ يَقَعُ النَّظْرُ اِلَيْهَا بِشَهْوَةٍ.
‘নারীদেরকে চেহারা খোলা থেকে নিষেধ করা হবে। যাতে পুরুষরা দেখতে না পারে। কেননা, চেহারা খোলা রাখলে পুরুষদের কামদৃষ্টি পড়বে।’ (দুররেমুখতার ১/২৪৮)

আট. ইংরেজীভাষায় প্রবাদ আছে, ‘চেহারা মস্তিষ্কের ইনডেক্স হয়ে থাকে।’ এ কারণেই ব্যক্তির চেহারা দেখে তার ব্যক্তিত্বের অনুমান করা যায়। লজ্জা-শরম, ভালো-মন্দ, আনন্দ-নিরানন্দ চেহারা দেখেই অনুমান করা যায়। সুতরাং চেহারা ঢেকে রাখা জরুরি।

নয়. বিয়ের জন্য কোনো মেয়েকে পছন্দ করার সময় তার চেহারা দেখা হয়। চেহারা ছাড়া অন্যঅঙ্গ দেখে তার ব্যক্তিত্ব পরিমাপ করা যাবে কি! এতে বোঝা যায়, চেহারার পর্দা অত্যন্ত জরুরি।

দশ. পরপুরুষ ও পরনারীর মাঝে ভালোবাসার সূচনা পরস্পরের চেহারা দেখেই হয়। অনেক সময় কথাবার্তার আগেই শুধু দেখেই ভালোবেসে ফেলে। কবির ভাষায়-

آنكهو ں آنكهو ں ميں اشار ے ہو گئے
ہم تمہار ے تم ہمار ے ہو گئے
‘চোখে-চোখে ইশারায়,
আমি তোমার, তুমি আমার হয়ে গেলাম।’

বোঝা গেল, চেহারাই ফেতনার সবচে’ শক্তিমান স্থান। সুতরাং চেহারাকে পর্দার বাইরে রাখা মুর্খতা ও ভ্রষ্টতার প্রমাণ।


অনুবাদ ও সম্পাদনা
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

প্রিয় বোন! কেন পর্দা করবেন? – ১ম পর্ব
প্রিয় বোন! কেন পর্দা করবেন? – ৩য় পর্ব