৬১তম পর্ব – একটি সুন্নাহকে বাঁচাবো বলে – জুমার অবগাহন – শায়খ আতিক উল্লাহ


জুমার অবগাহন

জুমার দিন গোসল করার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রচলিত ধর্মমতগুলোর মধ্যে, ইসলামই শারীরিক সূচিতার প্রতি সবিশেষ জোর দেয়। নানাভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি তাকিদ দেয়। আর জুমাবারে পরিচ্ছন্ন থাকার গুরুত্ব আরও বেশি করে দেয়। নবীজি বলেছেন:
الغُسْلُ يَوْمَ الجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ
প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর জুমার দিন গোসল করা ওয়াজিব (আবশ্যক)। বুখারী-মুসলিম।

হাদীসে ওয়াজিব বলে, গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। না গুনাহ হবে এমন নয়। কিন্তু নবীজি প্রতি জুমাবারেই গোসল করেছেন। সামাজিকভাবেও গোসলের গুরুত্ব বোঝা যায়। এদিন মসজিদে অন্যদিনের তুলনায় মানুষ বেশি হয়। অপরিচ্ছন্ন পোষাক আর অগোসল শরীরে মসজিদে গেলে, পাশে বসা ভাইদের কষ্ট হতে পারে। তার নামায-ইবাদতে বিঘœ সৃষ্টি হতে পারে।

আর গোসল করলে অনেক সওয়বের ভাগীদারও হওয়া যায়:
مَنْ غَسَّلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاغْتَسَلَ، ثُمَّ بَكَّرَ وَابْتَكَرَ، وَمَشَى وَلَمْ يَرْكَبْ، وَدَنَا مِنَ الإِمَامِ فَاسْتَمَعَ وَلَمْ يَلْغُ كَانَ لَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ عَمَلُ سَنَةٍ أَجْرُ صِيَامِهَا وَقِيَامِهَا
জুমার দিন যে ব্যক্তি ভালভাবে গোসল করলো, তারপর তাড়াতাড়ি মসজিদে গেলো, কোনও বাহনে না চড়ে হেঁটে মসজিদে গেল, ইমামের কাছাকাছি গিয়ে মনোযোগ দিয়ে কথা-খুতবা শুনলো, অনর্থক কোনও কথা বললো না: সে প্রতিটি কদমের জন্যে, এক বছর নামায-রোযার সওয়াব পাবে।

এক অবিশ্বাস্য প্রাপ্তি। এত সহজ একটা আমলে এতবড় অর্জন! আমাদের ইবাদত-বন্দেগীর যা করুন অবস্থা! তার বিনিময়ে আল্লাহর কাছে সওয়াবের আশা করা যায় না। শুধু দয়ার আশা করতে পারি। কিন্তু এই আমলের মাধ্যমে পুরো একবছ আমল করার সওয়াব পেয়ে যাবো! তাও প্রতিটি কদমে! (আবু দাউদ)।

মসজিদে বেশি দূরে হলে, হাঁটার বদলে গাড়িতে গেলেও আল্লাহ নিশ্চয় আমাদের অপারগত বুঝবেন। এবং বিনিময়ের ব্যাপারেও বিবেচনা করবেন। ইনশাআল্লাহ!